সব জায়গায় মোবাইল ফোনে কথা বলা যায় বলেই যে সব জায়গায় কথা বলতে হবে, বিষয়টা তা না। একবার ভেবে দেখুন, দোকানে দাঁড়িয়ে কেউ জোরে জোরে সন্তানের সঙ্গে একপাক্ষিক তর্ক করছে, কিংবা বাসে বসে স্পিকার চালু রেখে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাঙার গল্প বলছে। বিরক্তিকর তো বটেই, অনেক সময় তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কথা বললে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা কমে যায়। বিশেষ করে স্পিকার ব্যবহার করলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অচেনা লোকের কানে চলে যেতে পারে। তাই কোথায় ফোনে কথা বলা উচিত নয়, তা জানা জরুরি।
নিচে এমন ১৫টি পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো যেখানে ফোনে কথা বলা একদমই ঠিক না।
হাঁটার সময়: হাঁটতে হাঁটতে গল্প করা সহজ মনে হলেও এতে মনোযোগ সরে যায়। আশপাশে সাইকেল আরোহী, দ্রুতগামী গাড়ি বা হঠাৎ দৌড়ে আসা শিশু থাকতে পারে। ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেশি। জরুরি না হলে পরে ফোন করুন। জরুরি হলে এক পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলুন।
কেনাকাটার সময়: দোকানে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলা অন্য ক্রেতাদের জন্য বিরক্তিকর। পাশাপাশি মনোযোগ কমে গেলে চুরি বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকিও বাড়ে। প্রয়োজন হলে নিরিবিলি এক কোণে গিয়ে সংক্ষেপে কথা বলা শেষ করুন।
রেস্তোরাঁয় বসে : খাবারের টেবিল শুধু খাওয়ার জন্য নয়, সঙ্গে থাকা মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যেও। টেবিলে ফোন রেখে বারবার কথা বলা শিষ্টাচারবিরুদ্ধ। ফোন সাইলেন্ট রাখুন। কথা বলতে হলে বাইরে গিয়ে কথা সেরে নিন।
সেলুন বা স্পাতে: এ ধরনের জায়গায় মানুষ বিশ্রাম করতে আসে। জোরে ফোনে কথা বলা অন্যদের বিরক্ত করে। সাইলেন্ট বা ডু নট ডিস্টার্ব মোডে রাখুন। খুব দরকার হলে নিচু স্বরে কথা বলুন।
গণপরিবহনে: বাস, ট্রেন বা মেট্রোতে সবাই চায় কিছুটা শান্ত পরিবেশ। একপাক্ষিক জোরে কথা বলা অন্যদের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করে। কথা বলার বদলে মেসেজ পাঠানো ভালো। তবে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকুন।
হাসপাতালে: হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেন। ফোনে জোরে কথা বলা তাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এছাড়া কিছু চিকিৎসা যন্ত্রের সঙ্গে মোবাইলের তরঙ্গের প্রভাব পড়তে পারে। প্রয়োজনে বাইরে গিয়ে কথা বলুন।

বিমানে: বিমানে ওঠার পর এয়ারপ্লেন মোড চালু করা বাধ্যতামূলক। ফোনের সিগন্যাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। খুব জরুরি হলে বিমানের ওয়াইফাই ব্যবহার করে বার্তা পাঠান।
চাকরির সাক্ষাৎকারে: সাক্ষাৎকারে আপনার পূর্ণ মনোযোগ জরুরি। ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ রাখুন। ভুলে বেজে উঠলে কল না ধরে ক্ষমা চেয়ে নিন।
লাইনে দাঁড়িয়ে: ব্যাংক, বিমানবন্দর বা বিল কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ফোনালাপ অন্যদের বিরক্ত করে। সামনে এগোনোর সময় মিস হলে পুরো লাইন আটকে যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
কো-ওয়ার্কিং স্পেসে: শেয়ার করা কর্মস্থলে অন্যরা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। সেখানে জোরে কথা বলা অনুচিত। নির্দিষ্ট ফোন বুথ বা নিরিবিলি জায়গা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
বিয়ে বা জানাজায়: এ ধরনের অনুষ্ঠান আবেগঘন ও গুরুগম্ভীর। ফোন বেজে ওঠা বা কথা বলা অসম্মানজনক। সাইলেন্ট বা বন্ধ রাখুন। জরুরি হলে বাইরে গিয়ে কথা বলুন।
গাড়ি চালানোর সময়: বিক্ষিপ্ত মনোযোগে গাড়ি চালানো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক দেশে হাতে ফোন নিয়ে কথা বলা আইনত দণ্ডনীয়। একান্ত প্রয়োজন হলে হ্যান্ডস-ফ্রি ব্যবহার করুন, তবু সতর্ক থাকুন।
পাবলিক টয়লেটে: টয়লেটে ফোনে কথা বলা অস্বস্তিকর এবং অস্বাস্থ্যকর। ফ্লাশের সময় জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা ফোনে লেগে থাকতে পারে। প্রয়োজনে ব্যবহার শেষে হাত ধুয়ে তারপর ফোন ধরুন।
ফিটিং বা ট্রায়াল রুমে: কাপড় ট্রায়াল রুমে দীর্ঘ ফোনালাপ অন্যদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। দ্রুত কাজ সেরে বেরিয়ে আসুন।
প্রার্থনা বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে: মসজিদ, মন্দির বা গির্জায় প্রার্থনার সময় ফোন বেজে ওঠা অন্যদের মনোযোগ ভেঙে দেয়। প্রবেশের আগে সাইলেন্ট করুন।
মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে দায়িত্ববোধও জরুরি। সব জায়গায় কথা বলা সম্ভব হলেও সব জায়গায় তা শোভন বা নিরাপদ নয়। ব্যক্তিগত শালীনতা, অন্যের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিজের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে ফোন ব্যবহার করলে সমাজে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে। সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সেরা সমাধান।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
মন্তব্য করুন








