ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জেএসডি) এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিল আগেই। এবার আসন ছাড় না দেওয়ায় বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যও একই পথে হাঁটল।
মান্নার নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ এ ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি নেতা শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার না করায় এই বিভক্তির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মান্না একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো ফল মেলেনি।
এর আগে গত সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে একলা চলো নীতি অবলম্বনের ঘোষণা দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের সভাপতি মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে আরও ১০টি আসনে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়।
গত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ১০ নেতার নাম প্রকাশ করে তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা বলেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই ১০ জনের মধ্যে মান্নাও ছিলেন। তবে সম্প্রতি বগুড়া-২ আসনে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা শাহে আলমকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয় বিএনপি। শেষ দিনেও তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
এক প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি জানতাম, সমঝোতার ভিত্তিতে বগুড়া-২ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না বিএনপি। কিন্তু আমার আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়ে গেছেন। এখন কোনো সমাধানের সুযোগ নেই। তারা তাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে; আমাকে ইগনোর করেছে। কিন্তু আমি তো রাজনীতি করব। রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচনও করব।’
যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে আসন সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন করছে জেএসডি। গত ২৬ ডিসেম্বর দলটি এমন ঘোষণা দেয়। দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও এই আসন থেকে তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি এই আসনটি ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করায় জেএসডি সংবাদ সম্মেলন করে আলাদা নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়।
মন্তব্য করুন








