দীর্ঘ দুই দশক পর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর থানা ও ওয়ার্ডে চলছে সর্বশেষ প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন, গেঞ্জি-টুপি ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন নেতাকর্মীরা।
তবে এ সফর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দলীয় সমাবেশে চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে মঞ্চে কথা বলবেন তারেক রহমান। তিনি বহু বছর পর বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আসছেন। তার আগমনে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ঈদের আমেজ বইছে। কর্মী সমাগমই এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য।
তারা আরও বলেন, আশা করা হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও দলমত-নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা তারেক রহমানের কথা শুনতে ও তাকে একনজর দেখতে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমবেত হবেন।
এদিকে তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
নগর পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশ শুরু আগে মঞ্চ-মাঠ এবং আশপাশের এলাকা ডগ স্কোয়াড দিয়ে নিরীক্ষা করা হবে। চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন সিএমপি এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা। থাকবেন সোয়াত টিম, এপিবিএন, মেট্রোপুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা। পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাদাপোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। সমাবেশ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের ব্যস্ততম সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবে ডিসি ট্রাফিক বিভাগ।
নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে সমাবেশ চলাকালীন কোনো ধরনের ‘ড্রোন’ ওড়ানো বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় কোনো ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইটপাথর বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কোনো বস্তু প্রদর্শন, প্ল্যাকার্ড বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জনসমাবেশ এলাকায় ‘ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০’-এর ধারা ৯ ও ১৩ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ধারা অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, সমাবশেস্থলে এবং আশপাশের এলাকায় জেলা-উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের দেখভাল এবং আইনশৃঙ্খলার কাজে দলীয় কর্মীরা থাকবেন। কর্মীদের জন্য পানির ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা থাকবে।
পড়ুন এশিয়া পোস্ট স্পেশাল: ৯৫ ভুয়া বিসিএস ক্যাডারের সন্ধান।
মন্তব্য করুন








