আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, ভারত ম্যাচ না খেলার বিষয়ে পাকিস্তান সরকার ‘স্পষ্ট সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং সেটি বহাল থাকবে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি—ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা মাঠে নামব না।’
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, খেলাধুলায় রাজনীতি থাকা উচিত নয়, তবে সরকারের দৃষ্টিতে বর্তমান সিদ্ধান্তই ‘উপযুক্ত’।
গত রোববার পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানায়, জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে, তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামবে না। ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পাকিস্তানের এই অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নির্বাচিত অংশগ্রহণ’ বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইসিসি স্পষ্ট করে যে, সব যোগ্য দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই টুর্নামেন্টের ভিত্তি। সংস্থাটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার আহ্বানও জানায়।
আইসিসি আরও উল্লেখ করে, একটি দেশের সরকার জাতীয় নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখলেও, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থ এবং বৈশ্বিক সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের অগ্রাধিকার টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন নিশ্চিত করা—যা সদস্য বোর্ডগুলোরও দায়িত্ব।
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে জানা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দেশটির অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচটি হওয়ার কথা। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে উপস্থিত না হলে ম্যাচটি ফরফিট ধরা হতে পারে, যার ফলে প্রতিপক্ষ পূর্ণ পয়েন্ট পাবে এবং অনুপস্থিত দল শূন্য পয়েন্ট নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে। এ ছাড়া সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
২০ দল নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসছে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত। পাকিস্তান ‘এ’ গ্রুপে ভারতের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রয়েছে। এখন দৃষ্টি সবার—নির্ধারিত দিনে পাকিস্তান দল শেষ পর্যন্ত মাঠে নামে কি না, সেদিকেই।



