টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়ার পর এবার দেশের ক্রীড়া গণমাধ্যমের ওপরও বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বকাপ কাভারের জন্য বাংলাদেশ থেকে যেসব সাংবাদিক এক্রিডিটেশনের আবেদন করেছিলেন, তাদের সবাইকে একযোগে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর ফলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিকই আনুষ্ঠানিকভাবে যেতে পারছেন না।
বাংলাদেশ খেলবে কি খেলবে না—তা নির্বিশেষে টুর্নামেন্ট কাভারের জন্য বহু সংবাদমাধ্যম আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। নির্ধারিত সময় ও নিয়ম মেনে এক্রিডিটেশনের আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার পরপরই আইসিসি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সব আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, বিশ্বকাপ কাভারের জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের। ইতিহাস বলছে, ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিক নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশ দল অংশ না নিলেও অতীতে বিভিন্ন বিশ্বকাপ আসর কাভার করেছেন দেশের সংবাদকর্মীরা।
এই প্রেক্ষাপটে সব আবেদন একযোগে বাতিল হওয়াকে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিক সমাজ অত্যন্ত নেতিবাচক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টিকে পেশাগত অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের মতে, বাংলাদেশ দল খেলতে না পারলেও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কাভার করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা ন্যায্য নয়।
বিশেষ করে এবারের বিশ্বকাপ শুধু ভারতে নয়, সহ-আয়োজক হিসেবে শ্রীলঙ্কাতেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা শ্রীলঙ্কা অংশের ম্যাচগুলো কাভার করার বাস্তব সুযোগও ছিল। কিন্তু সব আবেদন বাতিল হওয়ায় সেই পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যৌথভাবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। বিসিবি কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইসিসির কাছে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়েও ভাবনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়া গণমাধ্যমের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। বিশ্বকাপ থেকে দল বাদ পড়ার পর এবার সাংবাদিকদের ওপর একযোগে এমন নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন








