প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ একেবারেই অনন্য। আমরা সাধারণত এগুলো ব্যবহার করি স্মার্টফোন আনলক বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য। আবার পুলিশ অপরাধ সমাধানে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আসলে, আঙুলের ছাপ শুধুই শনাক্ত করার জন্য নয়।
বিজ্ঞান জানায়, এগুলো আমাদের শরীর এবং অনুভূতির সঙ্গে অনেক গভীরভাবে জড়িত। আঙুলের ছাপ আমাদের জন্মের আগে তৈরি হয়, স্পর্শ বোঝায়, আঙ্গুলকে নমনীয় রাখে এবং এমনকি প্রকৃতির প্যাটার্নের সঙ্গে সম্পর্কও রাখে। প্রতিটি রেখা, প্রতিটি রিজ আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে।
জন্মের আগে তৈরি হয়
শিশুর গর্ভে প্রায় ১০ সপ্তাহে আঙুলের ছাপের রেখা তৈরি হতে শুরু করে। ১৭ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ সম্পূর্ণ অনন্য হয়ে যায়।
স্পর্শ অনুভূতিতে সাহায্য করে
রিজ বা রেখাগুলো আমাদের স্পর্শের অনুভূতি বাড়ায়। হাত দিয়ে বস্তুর পৃষ্ঠ বা টেক্সচার বোঝাতেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
হেয়ার ফলিকেলের মতো শুরু হয়
প্রথমে আঙুলের ছাপ ছোট কোষের মতো তৈরি হয়, পরে এগুলো রিজে পরিণত হয় এবং অনন্য প্যাটার্ন নেয়।
টুরিং প্যাটার্ন অনুসরণ করে
ব্রিটিশ গণিতবিদ আলান টুরিং-এর তত্ত্ব অনুযায়ী, ছোট জিনগত ভিন্নতা আঙুলের ছাপকে অনন্য করে তোলে।
প্রকৃতির অন্যান্য প্যাটার্নের মতো
এই প্যাটার্ন শুধু মানুষের আঙুলেই নয়, জেব্রার ডোরা বা চিতার দাগেও দেখা যায়।

কেউ কেউ জন্মগতভাবে ছাপহীন
একটি বিরল জিনগত রোগ আডারমাটো-গ্লাইফিয়ায় কেউ জন্মের সময় ছাপহীন হতে পারে। এমন অবস্থাতেও সাধারণভাবে শরীর সুস্থ থাকে।
ব্লিস্টার প্রতিরোধে সাহায্য করে
রিজ আঙুলের ত্বককে নমনীয় রাখে, তাই আঙুল বা পায়ের ত্বক সহজে ছেঁড়া বা ফোসকা থেকে রক্ষা পায়।
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী
বানর ও অন্যান্য এপেও আঙুলের ছাপ থাকে। কিন্তু কোয়ালার আঙুলের ছাপ মানুষের সঙ্গে মিল রয়েছে, যা বিরল।
বয়স বাড়লেও ছাপ অপরিবর্তিত থাকে
যদিও বয়স বাড়লে ত্বক নরম বা ঝুলতে পারে, আঙুলের ছাপ মূল রূপই ধরে রাখে।
তিন ধরনের প্যাটার্ন আছে
ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রধান ধরণ: হোয়রল, লুপ, আর্ক। এই বিন্যাস প্রতিটি ছাপকে অনন্য করে।
প্রাচীনকালেও ব্যবহৃত
প্রাচীন বেবিলনে চুক্তি সিল করতে আঙুলের ছাপ ব্যবহার হতো। মানুষ তখন থেকেই ছাপের বিশেষত্ব বুঝতে পেরেছিল।
অন্যান্য প্রাণীর ত্বকেও অনুরূপ প্যাটার্ন
কিছু বানর বা মাউসের আঙুলের ত্বকে সরল রেখা থাকে, যা গাছ চড়া বা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আঙুলের ছাপ শুধু শনাক্তকরণের জন্য নয়, এগুলো আমাদের শরীর, স্পর্শ ও দৈনন্দিন কার্যকলাপের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রতিটি রেখা আমাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য, বিকাশের ধরণ এবং প্রকৃতির ছোঁয়া বহন করে। তাই আঙুলের ছাপকে শুধু নিরাপত্তা বা প্রযুক্তির দিক থেকে দেখা ঠিক হবে না। এগুলো প্রকৃতির এক ছোট কিন্তু বিস্ময়কর রচনার অংশ, যা প্রতিটি মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
মন্তব্য করুন








