ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে ১০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। তবে ইইউর এই সিদ্ধান্তে চটেছেন ইইউর সদস্যরাষ্ট্র হাঙ্গেরির প্রধামন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ইউক্রেনকে এই ঋণের অনুমোদন দিলে ইইউ নেতারা সদস্য দেশগুলোকে আরও গভীর ঋণের জালে ফেলবেন। খবর আরটির।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ব্রাসেলসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অরবান দাবি করেন যে, তিনি একটি অভ্যন্তরীণ ইইউ নথি পেয়েছেন, যা প্রকাশ করতে পারবেন না। তার মতে, নথিটির বিষয়বস্তু ইউক্রেনের জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের সমর্থনে। এই ঋণ তার কাছে ‘বুকে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মতো’ আঘাত হেনেছে।
অরবান বলেন, ‘ইউক্রেন দাবি করছে যে আগামী ১০ বছরে ইইউ ৮০০ বিলিয়ন ডলার দেবে। একটি নথিতে বলা হচ্ছে, এটি ভালো সিদ্ধান্ত। এতে পুনর্গঠনের জন্য ও কিয়েভের সামরিক ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ৭০০ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত নয়।’
চলতি সপ্তাহে ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ইউক্রেনের মধ্যে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চাপ এবং তার ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের কারণে বিষয়টি কার্যত আড়ালে চলে যায়।
পুনর্গঠন চুক্তিটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ডাভোস সফর বাতিল করতে বাধ্য হন। পরে ট্রাম্প দুজনের শিগগিরই সাক্ষাতের ইঙ্গিত দেওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত বদলে ডাভোসে যান।
ইইউর ইউক্রেন নীতির দীর্ঘদিনের সমালোচক অরবান জানান, তিনি আশা করেন ব্রাসেলস ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করে আর্থিক প্রতিশ্রুতি কমাবে। তিনি ২০২৭ সালের মধ্যে ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘পরবর্তী ১০০ বছরে কোনো হাঙ্গেরিয়ান সংসদই এই যোগদানের পক্ষে ভোট দেবে না।’
গত বছর ব্রাসেলস ও কিছু ইইউ সদস্য দেশ রাশিয়ার জব্দ করা সার্বভৌম সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে অর্থায়নের জন্য চাপ দেয়। তবে বেলজিয়ামসহ কিছু দেশ আইনি ঝুঁকির কারণে তথাকথিত ‘পুনর্গঠন ঋণ’ আটকে দিলে, ইইউ সাধারণ বাজেটের বিপরীতে ৯০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণ নেওয়ার পথ বেছে নেয়। হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র এই ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে আসে।
মন্তব্য করুন








