যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিপ্রায়ের বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুল্ক ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশগুলো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিতেও উদ্যোগী হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। খবর রয়টার্সের।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেল্সে একটি জরুরি বৈঠকে একত্রিত হন দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা ‘ট্রেড বাজুকা’ বা ‘প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
কী এই ‘ট্রেড বাজুকা’
ইইউর গঠনতন্ত্রে থাকা একটি বন্দোবস্ত হলো ‘ট্রেড বাজুকা’। ইইউর সদস্য নয়, এই রকম এক বা একাধিক দেশ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এই অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ বা দেশগুলোর ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে কখনও এই অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়নি।
এদিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এই ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম বারের জন্য ইইউ-র ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করার সময় এসেছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যদি সত্যিই ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ তো হবেই, অন্য বিধিনিষেধও জারি হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে রাশ টানা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কোনও লাভজনক চুক্তিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ না-ও পেতে পারে মার্কিন সংস্থাগুলো।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রাসেল্সের (বেলজিয়ামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর) বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি সমঝোতা হয়েছিল ২০২৫ সালে। তাতে বলা হয়েছিল, মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেবে ইউরোপ। ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশে মার্কিন পণ্যের ওপর কোনো শুল্কই নেবে না। পরিবর্তে ইউরোপের পণ্যের উপরেও ট্রাম্প শুল্ক সীমিত রাখবেন। ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক নিতে পারবেন না। এই সংক্রান্ত সমঝোতা হলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে এখনও অনুমোদন মেলেনি। ইইউতে এখনও তা ঝুলে আছে।
ট্রাম্প ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর নেতা ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেছেন, ‘আমরা মার্কিন-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে সমর্থন করি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর ওই চুক্তিতে এখন অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।
ইউরোপের যে আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। এসব দেশ থেকে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তার উপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হতে পারে ২৫ শতাংশ।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেনসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
মন্তব্য করুন








