রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছেন দুজন শিক্ষক। এ ঘটনার একটি ভিডিও বুধবার (২১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে থানায় তলব করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভির ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছে। নয়াপল্টন এলাকার ‘শারমিন একাডেমি’ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটেছে। ইতোমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও কয়েকজন শিক্ষককে থানায় ডাকা হয়েছে। তবে তারা বারবার সময় চাইছেন।
১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে তোলা ওই ফুটেজে দেখা যায়, চশমা পরা, ঘিয়ে রঙের প্যান্ট ও ছাই রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সোফায় বসে থাকা শিশুটিকে কিছুক্ষণ পরপর এসে থাপ্পড় মারছেন, ভয় দেখাচ্ছেন এবং তিরস্কার করছেন। এক পর্যায়ে লোকটি একটি স্ট্যাপলার নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং শিশুটির মুখে স্টেপল লাগানোর হুমকি দেন। পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রাখেন, থাপ্পড় মারতে উদ্যত হন এবং তিনি হাসেন। এ সময় শিশুটিকে ভয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন নামে একজন ফেসবুকে এই ফুটেজটি শেয়ার করেছেন। তিনি এটিকে প্রতিষ্ঠানে শিশুদের কীভাবে শাস্তি দেওয়া হয়, তার একটি ‘নমুনা চিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এটি নয়াপল্টন এলাকার শারমিন একাডেমি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঘটনা। নির্যাতনে জড়িতদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শারমিন আক্তার। থানায় হাজির হওয়ার জন্য তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।
মন্তব্য করুন








