রাজধানীর নয়াপল্টনে শারমিন একাডেমি নামের একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পবিত্র কুমার বড়ুয়া ওই স্কুলের ব্যবস্থাপক। মামলার আরেক আসামি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার শিশু সন্তানকে নির্যাতনের ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় মামলা করেছেন তার মা। বিষয়টি জানিয়েছিলেন মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুই শিক্ষক মিলে ওই শিশুকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে তোলা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা আনুমানিক তিন-চার বছর বয়সী এক শিশুকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
চশমা পরা, ঘিয়ে রঙের প্যান্ট ও ছাই রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি সোফায় বসে থাকা শিশুটিকে কিছুক্ষণ পরপর এসে থাপ্পড় মারছেন, ভয় দেখাচ্ছেন এবং তিরস্কার করছেন। এক পর্যায়ে লোকটি একটি স্ট্যাপলার নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং শিশুটির মুখে স্টেপল লাগানোর হুমকি দেন। পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রাখেন, থাপ্পড় মারতে উদ্যত হন এবং তিনি হাসেন। এ সময় শিশুটিকে ভয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন নামে একজন ফেসবুকে এই ফুটেজটি শেয়ার করেছেন। তিনি এটিকে প্রতিষ্ঠানে শিশুদের কীভাবে শাস্তি দেওয়া হয়, তার একটি ‘নমুনা চিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি ক্যাপশনে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শাস্তির নামে এ ধরনের সহিংস আচরণ শুধু শিশুদের শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তারা এটিকে শিশুদের জীবনের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজের কোনো স্তরেই শারীরিক শাস্তির বৈধতা নেই।
মন্তব্য করুন








