ঢাকা, বাংলাদেশ ||
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ এত বিতর্কিত কেন

এপি আন্তর্জাতিক

  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘নতুন আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তীকালীন সংস্থা’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এটি নিয়ে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এর নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। তিনি ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণকে সমর্থন করেছিলেন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

নির্বাহী সদস্য ইস্যু ছাড়াও বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ফি হিসাবে এক বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ, জাতিসংঘের ভূমিকা সম্পর্কিত উদ্বেগ, ইত্যাদি ইস্যুতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই প্রতিবেদনে সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই বোর্ডে যোগদানে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?

জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ইতোমধ্যেই কয়েক ডজন বিশ্ব নেতাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, সাইপ্রিয়ট প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিডেস, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন।

গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পোলিশ প্রেসিডেন্ট ক্যারল নওরোকি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।

এ ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সনকেও বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি ‘যথাযথ বিবেচনা’ করবেন বলে জানা যাচ্ছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে যে, তারা এর বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে।

বোর্ডে যোগ দিতে কারা রাজি হয়েছেন?

ইতোমধ্যেই যারা প্রকাশ্যে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা, উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভ। এ ছাড়া ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক টো লাম এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো জানিয়েছেন, তিনি ‘অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত’।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও সদস্য হওয়ার জন্য অর্থ দেবেন না।

বোর্ডে যোগদানের জন্য কী কী প্রয়োজন?

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগদানের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যারা কেবল তিন বছরের সদস্যপদ থাকার পরিবর্তে স্থায়ী সদস্য হতে চান, তাদেরকে এক বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হবে। কর্মকর্তারা আরও জানান, এই অর্থ গাজার পুনর্গঠনে তহবিল জোগাতে সহায়তা করবে।

তবে রয়টার্সের দেখা চিঠি ও খসড়া সনদের একটি অনুলিপি অনুসারে, এই বোর্ড, যেটিতে ট্রাম্প আজীবন সভাপতিত্ব করবেন, অন্যান্য সংঘাত মোকাবিলায় পরবর্তীতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে দেবে?

চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, বোর্ড ‘বিশ্বব্যাপী সংঘাত সমাধানে একটি সাহসী নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করবে’। একে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দুর্বল করে দেওয়ার শঙ্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বর্তমানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, সনদটি ‘আরও দ্রুত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক শান্তি-নির্মাণ সংস্থার’ প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে করা হয়েছে। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘যেসব প্রতিষ্ঠান প্রায়শই ব্যর্থ হয়েছে, তাদের কাছ থেকে সরে যাওয়ার সাহস’ প্রয়োজন।

বোর্ড সম্পর্কে বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘এই মাইলফলকটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৮০৩-এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে বলেছেন, এই সনদ ‘গাজার একমাত্র কাঠামোর বাইরে’।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বড় ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষ করে জাতিসংঘের নীতি ও কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা সম্পর্কে, যা কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।’

এদিকে, কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফ্টের খালেদ এলগিন্ডি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন ধারণা আসছে যে তারা শান্তি বোর্ডের পরিধি আরো বিস্তৃত করতে এবং এমনকি বর্তমান জাতিসংঘ ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনের কথাও বলতে চায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে গাজা দিয়ে শুরু হতে পারে কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটি বোর্ডের শেষ নয়।’

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই জাতিসংঘে মার্কিন তহবিল কমিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন ভেটোর কারণে গাজা যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদ পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এই বছরের ৭ জানুয়ারি, ট্রাম্প একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন, যেখানে ‘মার্কিন জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে’ এমন ৩১টি জাতিসংঘ সত্তা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন এবং জাতিসংঘ ডেমোক্রেসি ফান্ড।

ট্রাম্পের বোর্ড কীভাবে চলবে?

‘বোর্ড অব পিস’-এর পাশাপাশি দুটি সহায়ক সিনিয়র বোর্ডও ঘোষণা করা হয়েছে। ‘প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ড’ উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগ ও কূটনীতির ওপর মনোযোগ দেবে। আর ‘গাজা নির্বাহী বোর্ড’ গাজার অস্থায়ী শাসন এবং পুনর্নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনোক্র্যাটদের একটি কমিটি, গাজার প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটির সমস্ত অন-দ্য-মাউন্ট কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বোর্ডগুলোর জন্য নির্বাচিতরা ‘কার্যকর শাসন এবং গাজার জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বোত্তম পরিষেবা প্রদান’ নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। হোয়াইট হাউস অনুসারে, ট্রাম্প সাত সদস্যের শক্তিশালী ‘প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ড’-এর সভাপতিত্ব করবেন, যা গাজা পুনর্গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এই বোর্ডে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ারও রয়েছেন, যার অন্তর্ভুক্তি বিতর্কিত কারণ ২০০৩ সালে তিনি ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে বলে দাবি করে যুক্তরাজ্যকে ইরাক যুদ্ধে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রতিটি সদস্যের নিজস্ব পোর্টফোলিও থাকবে ‘গাজার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ’।

বোর্ডে কি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি প্রতিনিধিত্ব রয়েছে?

উভয় নির্বাহী বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি নেই। গাজার নির্বাহী বোর্ডে একজন ইসরায়েলি আছেন, রিয়েল এস্টেট বিলিয়নেয়ার ইয়াকির গাবে, যিনি ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু এখন সাইপ্রাসে বসবাস করছেন। তবে এতে কাতার ও তুরস্কের মতো দেশের সিনিয়র রাজনীতিবিদরাও রয়েছেন যারা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনার সমালোচনা করেছেন।

ফিলিস্তিনিরা ‘অনেক বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব’ আশা করেছিল, রাজনীতিবিদ মুস্তাফা বারঘৌতি বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের উইকএন্ড প্রোগ্রামে বলেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে এটি কেবল একটি আমেরিকান বোর্ড, কিছু আন্তর্জাতিক উপাদানসহ।’

কায়রোতে শান্তি আলোচনায় অনুমোদিত ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক গোষ্ঠীর ভূমিকা ‘স্পষ্ট না থাকা’ ‘সমস্যাজনক’ হবে বলে বারঘৌতি বলেন। এবং গাজার পুনর্গঠনের সুবিধার্থে রাফাহ ক্রসিং খোলার ব্যাপারে ইসরায়েলের ইচ্ছা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, ইসরায়েল বলেছে, নির্বাহী বোর্ড গঠনের আলোচনা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত ছিল না এবং এটি তাদের নীতির পরিপন্থী’, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলছে।

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড এই ঘোষণাকে ‘ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। এবং এর অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী, ইতামার বেন-গভির,এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন: গাজা উপত্যকার ‘পুনর্বাসন’ তত্ত্বাবধানের জন্য কোনো ‘প্রশাসনিক কমিটির’ প্রয়োজন নেই-এটি থেকে হামাস সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার।’

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস কি গাজার সমস্যা সমাধান করতে পারবে?

জাতিসংঘের হিসাব বলছে, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলি শীতকালীন আবহাওয়া, সীমিত আশ্রয় এবং খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। সাহায্যকারী গোষ্ঠীগুলো বলছে, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিন্তু ইসরায়েল তাদের কাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে।

ইসরায়েল বলেছে, তারা মানবিক সহায়তা প্রদান করছে এবং যেকোনো বিধিনিষেধ হামাসের অনুপ্রবেশ এবং ত্রাণ প্রচেষ্টার অপব্যবহার বন্ধ করার জন্যই প্রয়োগ করা হয়েছে। তারা গাজায় ইতোমধ্যেই সরবরাহ বিতরণে ব্যর্থতার জন্য জাতিসংঘকে দোষারোপ করছে। এখন সম্ভবত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা।

হামাস বলেছে, তারা কেবল একটি বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে নিরস্ত্রীকরণ করবে। এবং ইসরায়েল, যার স্থল সেনারা এখনও গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, বলেছে যে হামাস নিরস্ত্রীকরণ করলেই তারা সেনা প্রত্যাহার করবে।

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস কত দ্রুত পরিবর্তন আনতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে, স্থায়ী শান্তির দিকে কিছু দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য করুন

মারা গেছেন মার্কিন নাগরিক অধিকারের নেতা জেসি জ্যাকসন
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী মুখ রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন মারা গেছেন। তিনি প্রায় অর্ধশত বছর ধরে এই আন্দোলন করে আসছিলেন। ১৯৮৮ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পরিবার সূত্রে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। তবে কি কারণে তিনি মারা গেছেন, তা জানানো হয়নি। এক বিবৃতিতে তার পরিবার জানায়, রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন শুধু পরিবারের জন্যই নন, বরং বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত ও কণ্ঠহীন মানুষের জন্য একজন ‘সেবক’ ছিলেন। ন্যায়বিচার, সাম্য ও ভালোবাসার প্রতি তার অটল বিশ্বাস লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই মহান মানুষটি আমাদের ছেড়ে পরলোক গমন করেছেন। যদিও এতে মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। জানা গেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রোগ্রেসিভ সুপারান্যুক্লিয়ার প্যালসি (পিএসপি) রোগে ভুগছিলেন। শুরুতে তার পার্কিনসন রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণেও তিনি দুবার হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯৬০-এর দশক থেকে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে সক্রিয় জ্যাকসন একসময় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০২০ সালে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে একজন পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী হিসেবে তাকে সন্দেহ, নিন্দা ও ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি অনেকেই বিশ্বাস করতেন না যে, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন। বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে যখন বারাক ওবামা ইতিহাস গড়েন। তখন অনেকে বলেন, তিনি কাচের ছাদ ভেঙে দেন, কিন্তু সেই ছাদে প্রথম ফাটল ধরিয়েছিলেন জেসি জ্যাকসন। ওবামার প্রায় দুই দশক আগেই জ্যাকসন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন জিততে পারেননি। দুজনের রাজনৈতিক যাত্রা ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠে। জ্যাকসন ছিলেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উত্তাপ থেকে উঠে আসা এক বাগ্মী নেতা, যার রাজনীতি গভীরভাবে প্রতিবাদ ও আন্দোলননির্ভর। অন্যদিকে, ওবামা ছিলেন নাগরিক অধিকার-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি; তিনি তুলনামূলকভাবে শীতল ও কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন, সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে। জ্যাকসন প্রকাশ্যে কখনও বিরক্তির কথা অস্বীকার করলেও, ২০০৮ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় একটি গরম মাইকে ওবামা সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করার কারণে তাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। তিনি এক পর্যায়ে অভিযোগও করেছিলেন যে, ওবামা কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলছেন। তবু ইতিহাসে দুজনই মার্কিন রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও পরস্পর-সম্পর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হন।
মারা গেছেন মার্কিন নাগরিক অধিকারের নেতা জেসি জ্যাকসন
মাদুরো অপহরণে অ্যানথ্রপিকের এআই / ক্লাউডের বিকল্প হিসেবে এক্সএআই পাবে পেন্টাগন?
‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি’ শিরোনামে একটি পোস্ট নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাসে খুঁজে বের করতে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ‘ক্রাউড’ ব্যবহার করেছিল। পরে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের কথা ভাবছে পেন্টাগন। বিকল্প হিসেবে ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআইর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে ‍যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত পোস্টটি শেয়ার করেছেন জিরো ডে ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র থ্রেট রিসার্চার পিটার গির্নাস। তাতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী অ্যানথ্রপিকের এআই টুল ‘ক্লাউড’ ব্যবহার করে মাদুরোর অবস্থান শনাক্ত করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যখন অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের টুল কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একইসঙ্গে তাদের ‘দায়িত্বশীল স্কেলিং নীতি’ অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সামরিক উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এতে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এখন সামরিক বাহিনীতে অ্যানথ্রপিকের ব্যবহারের পরিবর্তে ইলন মাস্কের এক্সএআইর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  দীর্ঘ নোটটিতে অভিযোগ করা হয়, নিকোলাস মাদুরোকে আটকের অভিযানে সহায়তা করেছিল ক্লাউড। এআই টুলটি লজিস্টিক প্যাটার্ন, স্যাটেলাইট চিত্র ও যোগাযোগের তথ্য এমন গতিতে বিশ্লেষণ করে, যা কোনো মানব দল একা করতে পারত না এবং এর ফলেই মাদুরোকে শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা সম্ভব হয়েছে। দাবি করা হয়, এটি ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ এই কোম্পানি’র সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) লিখেছেন। যদিও এতে কোনো নাম উল্লেখ নেই। বর্ণনা অনুযায়ী অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নির্মাতা ক্লাউটের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের ‘রেসপন্সিবল স্কেলিং পলিসি’তে রাষ্ট্রপ্রধানদের ধরতে সহায়তার মতো ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই। এই নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের গবেষণা শুধু ক্লাউড নয়, আরও কয়েকটি বড় এআই মডেলে ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভেনেজুয়েলায় সফল অভিযান পেন্টাগন সন্তুষ্ট হলেও, অ্যানথ্রপিক প্রশ্ন তোলার পর তারা ‘বিকল্প সরবরাহকারী’ খুঁজতে শুরু করেছে। পেন্টাগন এখন ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআইর সঙ্গে আলোচনা করছে। নোটের শেষাংশে তীব্র ব্যঙ্গ করে বলা হয়, ‘এদিকে পেন্টাগন ইলন মাস্কের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। পরের বার যে এআই ব্যবহার হবে, তাতে কোনো রেলিং নেই, কোনো সুরক্ষা স্তর নেই, দীর্ঘ নীতিমালা নেই… বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ এআই কোম্পানি হয়তো শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে কম নিরাপদই করে তুলেছে।’ পেন্টাগন কি অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে? একজন মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে তাদের এআই মডেল ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা বজায় রাখার ব্যাপারে জোর দেওয়ায় পেন্টাগন এখন অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বিবেচনা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন চায় যুদ্ধক্ষেত্রের অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ ‘সব আইনসম্মত উদ্দেশ্যে’ এআই টুল ব্যবহার করতে। এ লক্ষ্যে চারটি বড় এআই ল্যাবের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে, যার একটি অ্যানথ্রপিক। তবে কোম্পানিটি এই শর্তে পুরোপুরি সম্মত হয়নি। অ্যানথ্রপিকের অবস্থান হলো মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রগুলো তাদের প্রযুক্তির সীমার বাইরে থাকা উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এ আলোচনাকে ‘অকার্যকর’ বলে মনে করছেন। গত গ্রীষ্মে অ্যানথ্রপিক পেন্টাগনের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। তাদের এআই টুল ক্লাউড-ই ছিল প্রথম মডেল, যা পেন্টাগন তাদের শ্রেণিবদ্ধ নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছিল।ভেঞ্চারস, এমজিএক্স এবং আইকনিকের যৌথ নেতৃত্বে ছিল, একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এই অর্থ গবেষণা, পণ্য উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য অর্থায়ন করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি
ক্লাউডের বিকল্প হিসেবে এক্সএআই পাবে পেন্টাগন?
ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডে পাকিস্তানের ভূমিকা কী থাকবে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে নবগঠিত শান্তি বোর্ড যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা অঞ্চল পুনর্নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আরও জানান, তার শান্তি বোর্ডের প্রথম সভা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশে হাজার হাজার কর্মী মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প।  এ বিষয়ে জিও নিউজ ও ডনকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন বোর্ড অব পিস (শান্তি বোর্ড) সভায় যোগ দেবেন। তার সঙ্গে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য পরে জানানো হবে।  গাজা ইস্যুতে গঠিত ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড মূলত প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বোর্ডের সনদ অনুসারে মার্কিন সরকার এটির সব কর্মকাণ্ড দেখভাল করবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিসকে বোর্ডের সদর দপ্তর হিসেবে মনোনীত করেছেন। গাজা ইস্যুতে গঠিত এ শান্তি বোর্ডে পাকিস্তানও অংশ নিয়েছে। কারণ দেশটির অসংখ্য সেনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আছে। পাকিস্তান এখন এ আন্তর্জাতিক সংস্থার অন্যতম বৃহত্তম সেনা প্রেরণকারী দেশ। গত ছয় দশক ধরে তারা ২৩ দেশে ৪১টি মিশনে ১৫ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন করেছে। এ কারণে পাকিস্তান জানে যে বহুজাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়। কোন ধরনের পদক্ষেপে শান্তি বিনষ্ট হবে এবং কীভাবে সংঘাত মোকাবেলায় কাজ করতে হয়। এ ছাড়া পাকিস্তান বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে। তারা ওআইসি ও এসসিওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বেশ সক্রিয়। এ ধরনের কূটনৈতিক সক্ষমতার কারণে দেশটি সংঘাত নিরসন ও শান্তি স্থাপনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।  ইসলামাবাদ ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরীফকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায়। দেশটি ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে টেকসই শান্তির একমাত্র কার্যকর কাঠামো হিসেবে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানকে সমর্থন করে। এ কারণে গাজা ইস্যুতে গঠিত ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। 
ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ডে পাকিস্তানের ভূমিকা কী থাকবে
ট্রাম্পের সহায়তা ঘোষণার পর ১১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরায়েল 
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক এমন সময়ে সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  রোববার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরা এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ১ হাজার ৬২০ বার এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। হাসপাতালের সূত্রগুলো আলজাজিরাকে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে পাঁচজনকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ খান ইউনিসে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গাজার একটি সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, রোববার গাজা শহরের পূর্বে তাল আল-হাওয়া পাড়ায় এক হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) কমান্ডার সামি আল-দাহদৌহকে হত্যা করেছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলাকে নতুন করে চালানো গণহত্যা বলে নিন্দা করেছে। তার মতে ইসরায়েলিরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দিয়েছে।  এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তার নবগঠিত শান্তি বোর্ড যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা অঞ্চল পুনর্নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে তার নবগঠিত শান্তি বোর্ডের প্রথম সভা বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক এমন সময়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।  অপরদিকে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের এক পোস্টে লিখেছেন, নবগঠিত শান্তি বোর্ডের সদস্যরা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশে হাজার হাজার কর্মী মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের সহায়তা ঘোষণার পর ১১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরায়েল 
লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলের বোমা হামলা, নিহত ৪
ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার সাথে লেবাননের সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে চারজনকে হত্যা করেছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।  সোমবার ( ১৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ বোমা হামলা চালানো হয়েছে।  লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজনের নাম খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ। তিনি সিরিয়ান নাগরিক। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক্সের একটি পোস্টে তারা দাবি করেছে, লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সদস্যদের লক্ষ্য করে এ বোমা হামলা করা হয়েছে। তবে তারা তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ সরবরাহ করেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এ সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হামাসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে। এ সংগঠনটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহরও মিত্র।  এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলের বোমা হামলা, নিহত ৪
সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনারা দুই সেনা এবং একজন দোভাষী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির উগ্রবাদী সংগঠন আইএসআইএলের (আইএসআইএস) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালিয়েছে। আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিরিয়ায় ৩০টিরও বেশি আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তখন এ উগ্রবাদী সংগঠনের অবকাঠামো এবং অস্ত্র সংরক্ষণের স্থানগুলোতে হামলা করা হয়। সেন্টকম জানিয়েছে,  মার্কিন সেনারা এ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অবশিষ্টাংশের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখছে। এ কারণে সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে ঐতিহাসিক শহর পালমিরার কাছে হামলা করে আইএসআইএস। এ আক্রমণে মার্কিন সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান টরেস-টোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং দোভাষী আয়াদ মনসুর সাকাত নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের পর শুরু হওয়া মার্কিন অভিযানে দুই মাসে ৫০ জনেরও বেশি যোদ্ধা বন্দি অথবা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উগ্রবাদী সংগঠনটির ১০০ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, শুক্রবার সিরিয়া থেকে হাজার হাজার আইএসআইএল বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ময়নাতদন্ত দেখা চিকিৎসকের দাবি / আত্মহত্যা নয়, এপস্টেইনকে হত্যা করা হয়
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তদন্ত করার দাবি তুলেছেন তার ময়নাতদন্তে উপস্থিত থাকা চিকিৎসক ডা. মাইকেল ব্যাডেন। তিনি বলেন, ধনকুবের এপস্টেইন আত্মহত্যা করেনি, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে যৌন পাচারের মামলায় বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের আত্মহত্যার বিষয়ে নিউইয়র্ক মেডিকেল এক্সামিনার দপ্তরের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ডা. ব্যাডেন। ডা. ব্যাডেন নিজে ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেননি। তবে তিনি এপস্টেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন। এই প্যাথলজিস্ট বলেন, ‘আমার মতে, তার মৃত্যু সম্ভবত ফাঁসিতে ঝুলে নয়, বরং গলায় চাপ প্রয়োগের (শ্বাসরোধ) কারণে হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মৃত্যুর কারণ ও ধরন নির্ধারণে আরও তদন্ত প্রয়োজন।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকাশিত সরকারি নথিপত্র এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে আরও রহস্য ঘনীভূত করেছে। এপস্টেইনের মৃত্যুর রাতে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর রেকর্ডিংয়ে রহস্যজনক একটি ‘নিখোঁজ’ এক মিনিট নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। অদৃশ্যভাবে কেউ তার সেলে প্রবেশ করেছিল এমনও ধারণা করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর প্রথম দফা প্রকাশের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ এপস্টেইনের ময়নাতদন্তের একটি আংশিক সম্পাদিত (রেড্যাক্টেড) সংস্করণ প্রকাশ করে। ওই নথিতে এপস্টেইনের ‘মৃত্যুর ধরন’ অংশে লেখা রয়েছে, ‘মুলতবি’ (পেন্ডিং)। আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড; উভয় ঘরই ফাঁকা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য টেলিগ্রাফ নিউইয়র্ক সিটি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
আত্মহত্যা নয়, এপস্টেইনকে হত্যা করা হয়
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলা চালিয়ে যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে এই অভিযান কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ হতে পারে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভয়াবহ সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব বিকল্প খোলা আছে। তিনি বিভিন্ন মতামত শোনেন, তবে দেশের নিরাপত্তার জন্য যেটি সর্বোত্তম মনে করেন সেটিই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পেন্টাগন। কর্মকর্তাদের মতে, এবারকার পরিকল্পনা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এক কর্মকর্তা জানান, ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। আরেক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধরেই নিয়েছে ইরানও পাল্টা আঘাত হানবে। ফলে কিছু সময় ধরে আক্রমণ ও প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা চলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। কারণ ইরানের কাছে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিশোধ বা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানের পারমাণবিক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে বিকল্প হবে ‘খুবই ভয়ানক’। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়াও পাল্টা হামলায় ইসরায়েল প্রথম লক্ষ্যবস্তু হবে বলে সতর্ক করেছে। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তাতে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পর নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি পারমাণবিকচালিত বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে আরও হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার ও প্রতিরক্ষায় সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে। উত্তর ক্যারোলিনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ‘চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও ভয় দেখাতেই হয়, এটাই পরিস্থিতি সমাধানের একমাত্র উপায়।’ ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী জাহাজ পাঠিয়েছিল পেন্টাগন। হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পরিসরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় আইআরজিসি।
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে শাসন পরিবর্তন ‘ভালো সমাধান’: ট্রাম্প
ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই ‘সবচেয়ে ভালো সমাধান’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বক্তব্যকে দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে তার স্পষ্ট সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসির। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, ‘৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথাই বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি।’ তবে ইরানের নেতৃত্বে তিনি কাকে দেখতে চান সেটি স্পষ্ট করে বলেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘সেখানে দায়িত্ব নেওয়ার মতো অনেকেই আছেন।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। এদিকে, পারমাণবিক চুক্তির জন্য ইরানের ওপর চাপ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিকচালিত আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ-এ ট্রাম্প রণতরীটির আকাশ থেকে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে আরেকটি মার্কিন রণতরী ইউএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন গত জানুয়ারিতে এই রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন করেছিল। সেসময় ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে সরকারি অভিযানের প্রেক্ষাপটে হামলার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল। ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এবারের এই বিক্ষোভের সময়েই সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ওই বিপ্লবের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ নেতার মাধ্যমে দেশটিতে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে, পারমাণবিক চুক্তি না হলে ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দেন। তবে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এর দুদিনের মাথায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোর্ট ব্র্যাগে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হামলা এড়াতে ইরানের উচিত ‘আমাদের এমন একটি চুক্তি দেওয়া, যা প্রথমবারেই তাদের দেওয়া উচিত ছিল।’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কিংবা হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। যদিও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি কিছুটা সীমিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তারা ‘অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না’। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বারাক ওবামা আমলে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ফলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে চাপে পড়ে। গত বছর আলোচনা ভেস্তে গেলে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। এতে অংশ নিয়ে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানে শাসন পরিবর্তন ‘ভালো সমাধান’: ট্রাম্প
আরও পড়ুন
ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদে’ যুক্ত হচ্ছে আরও ৭ দেশ
‘শান্তি বোর্ডে’ যোগ দেবে পাকিস্তান
আমি ইউরোপকে ভালোবাসি : ট্রাম্প
পরিহাস করায় ম্যাঁক্রোকে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি