গাজা শান্তি উদ্যোগে অংশ না নিতে অস্বীকৃতি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে নিয়ে উপহাস করায় ফ্রান্সের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিয়ামিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো অনীহা দেখাচ্ছেন। এ অবস্থান বদলাতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ম্যাঁক্রোর রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত, কারণ তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে মাসে এবং ফরাসি আইন অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। এ সময় তিনি বলেন, ‘সে যোগ দেবে। তবে তাকে বাধ্য করা হচ্ছে না।’
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটি গত নভেম্বর মাসে অনুমোদন পায়। এর উদ্দেশ্য গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও টেকসই করা। এই বোর্ডে অংশ নিতে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এর আগে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ফ্রান্স ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ইচ্ছা রাখে না। ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বোর্ডটির কাঠামো কেবল গাজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যা প্যারিসের উদ্বেগের কারণ।
ফ্রান্সের অন্যতম বড় রপ্তানি খাত ওয়াইন ও শ্যাম্পেন শিল্প। এই শুল্ক আরোপ কার্যকর হলে শিল্প দুটি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং অকার্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। তারা জানিয়েছে, কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করার জন্য শুল্কের ভয় দেখানো আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিপন্থি এবং এটি কোনো কাজে আসবে না।
মন্তব্য করুন








