মিরপুরের রাতে চাপ, পাল্টা আক্রমণ আর শেষ পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধ—সব মিলিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার হয়ে উঠেছিল টানটান এক লড়াই। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। বিনুরা ফার্নান্দোর বিধ্বংসী বোলিংয়ে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে বিপিএল ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রাজশাহী। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সিলেটকে।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী গড়েছে ১৬৫ রান। শুরুটা ছিল আগ্রাসী। তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহানের উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুতই আসে ৪১ রান। তানজিদের ব্যাটে গতি, ফারহানের স্ট্রোকে স্থিরতা আর পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৬১/১। ১৫ বলে ৩২ রান করে তানজিদ ফিরতেই ছন্দে ভাঙন ধরে।
মাঝে ব্যাটিং ধস নামে। নাজমুল হোসেন শান্ত বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, আর মুশফিকুর রহিম ও এস এম মেহেরব হোসেন ফিরেছেন খাতা না খুলেই। চাপের মুহূর্তে ইনিংস গুছিয়ে নেন কেইন উইলিয়ামসন। তার সঙ্গে যোগ দেন জিমি নিশাম—এই জুটিতেই রাজশাহী ফের দাঁড়ায়। নিশামের ২৬ বলে ৪৪ রানের ঝাঁঝালো ইনিংস দলকে এনে দেয় গতি ও আত্মবিশ্বাস। উইলিয়ামসন ছিলেন নোঙরের ভূমিকায় যাতে আসে ৩৮ বলে করেন ৪৫ রান। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৫। চ্যালেঞ্জিং স্কোর কিন্তু নিরাপদ নয়।
লক্ষ্যে নেমে সিলেট শুরুতেই বিপাকে পড়ে। প্রথম ওভারেই জাকির হাসান, এরপর আরিফুল ইসলাম—৭ রানের মধ্যেই নেই দুই উইকেট। ধাক্কা সামলে জুটি বাঁধেন পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে সিলেট। ইমন ছিলেন ধারাবাহিক, বিলিংস ছিলেন আক্রমণাত্মক। ইমন ৩৪ বলে ৪৮ করে ফিরলে স্কোর দাঁড়ায় ৭৬—ম্যাচ তখনও খোলা।
এরপর ছন্দ কাটে। মঈন আলী দ্রুত বিদায় নেন, বিলিংস ২৮ বলে ৩৭ করে ফিরতেই চাপ বাড়ে। আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মেহেদী হাসান মিরাজও ধারাবাহিক উইকেটের শিকার হন। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৯। সেখানে রাজশাহীর বোলাররা নিখুঁত পরিকল্পনায় রান আটকে দেন।
শেষ ওভারে দায়িত্ব পান বিনুরা ফার্নান্দো। স্লোয়ারের বৈচিত্র্যে তিনি দেন মাত্র ১১ রান আর ম্যাচ সেখানেই ফুরিয়ে যায়। ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই শ্রীলঙ্কান পেসার। সহায়তা করেন রুবেল, সাকলাইন ও তানজিম সাকিব।
এই জয়ে ফাইনালে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর সিলেট টাইটান্সের জন্য এখানেই থামে এবারের বিপিএল যাত্রা।
মন্তব্য করুন








