অনেকেই ভাতের সঙ্গে মসুর ডাল খেতে পছন্দ করেন। কেউ আবার মসুর ডাল হলে জমিয়ে খেতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে অন্য ডালের তুলনায় মসুর ডালই বেশি খাওয়া হয়। এ ডাল সুস্বাদু ও সহজলভ্য। এটাতে প্রোটিনের মাত্রাও বেশি। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে মসুর ডাল উপকারের চেয়ে ক্ষতি করতে পারে বেশি।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় পুষ্টিবিদ অমিত ভরদাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, ‘দৈনন্দিন যেসব খাবার খাওয়া হয়, তার প্রত্যেকটিই কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ভিটামিন, প্রোটিন, খনিজ, ফাইবার, শর্করার সমাহার। ওই সব পুষ্টিগুণ সবার জন্য সবসময় সমান উপকারী নাও হতে পারে। যেমন— আয়রন কারও রক্তাল্পতার সমস্যা কমালেও কারও কারও শরীরে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। ডালের বিষয়টিও তেমনই।’
কাদের মসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত?
পুষ্টিবিদ অমিত ভরদাজের মতে, মসুর ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস হলেও তাতে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদান কারও কারও শরীরে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা
যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি বা যারা গাউট কিংবা গাঁটের বাতের ব্যথায় ভুগছেন, তাদের মসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত। ‘মুসুর ডালে ‘পিউরিন’ নামে এক ধরনের উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। শরীর যখন এই পিউরিন ভাঙে, তখন ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অস্থিসন্ধিতে জমে ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিডনির সমস্যা
যাদের কিডনিতে স্টোন হয়েছে বা কিডনির অন্য সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যও মসুর ডাল ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, মসুর ডালে অক্সালেট থাকে, যা কিডনিতে স্টোন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে ডালে থাকা পটাশিয়াম এবং প্রোটিন রক্তে জমা হতে থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
হজমের সমস্যা
যাদের খুব সহজে গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়, তাদের জন্য মসুর ডাল কম খাওয়া ভালো। পুষ্টিবিদ অমিত বলেন, মসুর ডালে প্রচুর ফাইবার থাকে। থাকে শর্করাও। যা সহজে হজম হতে চায় না। অন্ত্রে দীর্ঘক্ষণ জমে থাকলে গেঁজিয়ে উঠে গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র : আনন্দবাজার
মন্তব্য করুন








