টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে পাকিস্তানও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাবতে পারে—এমন তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রতীকী ও কৌশলগত অবস্থান হিসেবে টুর্নামেন্ট বয়কটের বিকল্প বিবেচনায় রাখতে পারে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। জানা গেছে, জাতীয় দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিবেচনায় সরকারের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির বোর্ড সভার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই হবে। বিসিবির শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর অনুরোধ সরাসরি নাকচ করে দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ তাদের প্রথম তিন ম্যাচ খেলবে কলকাতায়—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি, ইতালির বিপক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারি এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্ব শেষ করার কথা টাইগারদের।
আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সরকারের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনা করার জন্য আইসিসির কাছে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, তারা এখনো শ্রীলঙ্কায় খেলানোর বিকল্পে অনড়, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খেলোয়াড় ও সরকার—উভয়ই বিশ্বকাপে অংশ নিতে চায়, তবে নিরাপত্তা বিবেচনায় ভারতের ভেন্যু নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর পাকিস্তানের পরবর্তী অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করছে। বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে পাকিস্তানও সংহতির বার্তা দিতে টুর্নামেন্ট বর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।
তবে এই বিষয়ে এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
মন্তব্য করুন








