বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের রোমাঞ্চে ভরা প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে তিন বল হাতে রেখে হারিয়ে বিপিএল ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদীর শেষদিকের সাহসী ব্যাটিংই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী—যা শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়। রাজশাহী ১৩৩ রানের লক্ষ্য দিলে চট্টগ্রাম ৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রামকে শক্ত ভিত দেন ওপেনার নাইম শেখ ও মির্জা তাহির বেগ। দুই ওপেনার ৬৪ রানের কার্যকর জুটি গড়েন। ৩৮ বলে ৩০ রান করে ফেরেন নাইম। এরপর হাসান নেওয়াজ কিছুক্ষণ সঙ্গ দিলেও ২০ রানে বিদায় নেন। আসিফ আলী থামেন ১১ রানে।
তাহির একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৭ বলে ৪৫ রান করেন, তবে জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই আউট হন। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী। মাত্র ৯ বলে ১৯ রানের অপরাজিত ক্যামিও খেলেন তিনি, যার মধ্যে ছিল একটি ছক্কা। আমের জামাল ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ ওভারে চট্টগ্রামের দরকার ছিল ৯ রান। রিপন মন্ডলের করা প্রথম তিন বলেই সেই রান তুলে নেন মেহেদী। রাজশাহীর হয়ে সাইকলাইন নেন দুটি উইকেট; বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ পান একটি করে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী শুরুটা ভালো করলেও মাঝপথে ধসে পড়ে। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান ৩০ রানের জুটি গড়েন। ফারহান ২১ রানে ফিরলে দ্রুতই পড়ে যায় আরও দুটি উইকেট—অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৮) ও মুশফিকুর রহিম (০) পরপর দুই বলে আউট হন শেখ মেহেদীর শিকার হয়ে।
আকবর আলী মাত্র ৩ রান করেন। তানজিদ অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রাখেন, ৩৭ বলে ৪১ রান করেন, তবে হাফ-সেঞ্চুরির আগে থেমে যান। জিমি নিশাম (৬) ও বার্ল (৩) দ্রুত বিদায় নেন।
শেষদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১৫ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যা রাজশাহীকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। তবু সেটি যথেষ্ট হয়নি।
এই জয়ে চট্টগ্রাম সরাসরি ফাইনালে উঠেছে, আর রাজশাহীকে এখন সিলেটের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলতে হবে।
মন্তব্য করুন








